আপনি আপনার বাবা মায়ের রাত জাগার ঋণ কোনোদিনও শোধ করতে পারবেন না।

নরওয়ে থেকে:-

আমার একটা মেয়েকেই লালন পালন করতে প্রতিদিন হিমশিম খাই ,, মেয়ে যত বড়ো হচ্ছে ওর চাহিদা ততই বাড়ছে, আর ওর ভবিষৎ নিয়ে চিন্তায় প্রতি মাসে আমার কপালজুড়ে একটার পর একটা ভাঁজ পড়ছে..
মাঝে মাঝে চিন্তা করি , আমরা ৬ ভাই বোনদের খাবার দাবার, কাপড় চোপড় , শিক্ষা উপকরণ, ঔষধ এবং চিকিৎসা করছ বহন করতে আমাদের আব্বা আম্মার কতইনা কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে ! কত নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে, আরো কত কিছু যে ত্যাগ করতে হয়েছে তার কোনো সীমারেখা নেই –

আমার বাবা, মা, শিক্ষক, শিক্ষিকাবৃন্দ, আর কিছু আত্মীয় স্বজন আছেন যাদের কাছে আমি চির ঋণী । বিশেষভাবে এই ঋণী মানুষগুলো ছাড়া আমি কারো জন্য প্রার্থনা করিনা, কিছু কিছু জিনিস আছে যা একান্ত ব্যক্তিগত, আর আমার এই একান্ত ব্যক্তিগত জিনিসগুলোর একটা হচ্ছে আমার বাবা মা সহো কিছু অতি প্রিয় মানুষদের জন্য মনভরে প্রার্থনা করা। নামাজ পড়ে বা পূজা পাঠ করে প্রার্থনা করলেই যে সে প্রার্থনা সফল হবে তার কোনো মানে হয়না । কারো জন্য প্রার্থনা করলে তা করতে হয় সে মানুষটাকে ভালোবেসে নিজের হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে, তবে প্রার্থনা করে কেউ কারো কোনো কিছু পাল্টাতে না পারলেও কারো জন্য প্রার্থনা করার মাঝে মানুষিক যে শান্তি পাওয়া যায় তার কোনো তুলনাই হয়না।

জীবনে যেখানে যে অবস্থাতেই আছেন, নিজের বাবা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যত্নশীল হোন । একটা কথা মনে রাখবেন যে, ইচ্ছা থাকলেও সব বাবা মায়ের পক্ষে সব সন্তানদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না , আপনি বড়ো হয়েছেন তাই আপনার ভবিষতের দায়িত্ব আপনার নিজেকেই নিতে হবে।
আপনাকে কাজ খুঁজে দেয়া, এখনো এই বয়সেও আপনাকে ঘরে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানো, আপনাকে বিদেশ পাঠানো, আপনাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া আপনার বাবা মায়ের দায়িত্বের মাঝে পড়েনা। নিজেরটা নিজে করতে শিখুন আর পারলে বাবা মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করুন। 
আপনি যদি একটা ভালো চাকরি পান বা ব্যাবসায় উন্নতি করেন, তবে আপনি আপনার বাবা মা কে কিছু না দিলেও উনারা সুখী হবেন কেন না প্রত্যেকটা সন্তানের সুখ ও সফলতার মাঝে লুকিয়ে থাকে বাবা মায়ের আসল সুখ। 
আমার মেয়ে যখন বলে আমি আমার ক্লাসে আর সবার চেয়ে ইংলিশ এবং মেথমেটিক্সে ভালো ( Pappa, jeg er den beste i klassen min på engelsk og matematikk ) তখন আমার বুকটা যে কত ইঞ্চি বড়ো হয় তা শুধু অন্য বাবা মা ই অনুধাবন করতে পারবেন।

আপনি আপনার বাবা মায়ের রাত জাগা ঋণ কোনোদিনও শোধ করতে পারবেন না। তবে আপনি সফল হলে উনারা খুশী হবেন উনাদের মুখ উজ্জ্বল হবে এবং এতেই উনাদের সবচে বড়ো প্রাপ্তি।

যেখানেই থাকেন ভালো থাকবেন।

A picture with my daughter Sofina Andersen Shorif from 2010.

5,190 total views, 10 views today

প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। পোষ্ট লেখক অথবা মন্তব্যকারীর অনুমতি না নিয়ে পোস্টের অথবা মন্তব্যের আংশিক বা পুরোটা কোন মিডিয়ায় পুনঃপ্রকাশ করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *