ফোর্ড সরকারের নতুন Autism প্রোগ্রাম এবং মরার উপর খড়ার ঘাঁ !!

আপনারা  ইতিমধ্যে নিশ্চয় শুনেছেন এবং আমি আগেও লিখেছি যে ফোর্ড সরকার নতুন Autism প্রোগ্রাম নামে Special Needs বাচ্চাদের জন্য নিজেদের পছন্দমত একটি প্রোগ্রাম ঘোষণা করেছে। তারা এই প্রোগ্রামটি ঘোষণার আগে এই বিষয়ে যারা ভুক্তভোগী বা যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাদের সাথে তেমন কোনো আলোচনা করেনি বলে জানা যায়।
গত ৭ তারিখের কুইন্স পার্কের সামনের প্রটেস্টেএ গেলে বা ওই সম্মদ্ধে খবর শুনলে বিষয়টি ভালো করে জানবেন।
পাবলিককে ধুলা দেওয়ার জন্য তারা বলেছে যে অসংখ লোকের ওয়েটিং লিস্ট বা ব্যাকলগ কমানোর জন্য তাদের এই প্রয়াস। কথাটি ঠিক না। আমি খুব সংক্ষেপে তাদের প্রোগ্রামটি সমন্ধে যেটুকু বুঝেছি তার জাস্ট দুই একটি বিষয় বলছি।
এখন থেকে তারা একটি বাচ্চার প্রয়োজন অনুযায়ী funding না দিয়ে বাচ্চার বয়স অনুযায়ী দিবেন। এতে করে অনেক বড়ো ক্ষতি হবে তাদের যাদের Need অনেক বেশি ( যেটি কি না অধিকাংশেরই) . এরা বঞ্চিত হবে অনেক ধরণের থেরাপি থেকে।
যেমন ধরুন আমি বেশ কয়েকটি পরিবারকে জানি তারা দুজন কাজ করেন, তাদের বাচ্চা একটি বিশেষ থেরাপিস্টের কাছে যায়। এখন নতুন প্রোগ্রামে তারা হয়তো এটি পাবে না।  তখন সেই বাচ্চাকে সাধরণ ইস্কুলে দিতে হবে, যেখানকার শিক্ষকরা বিশেষভাবে trained না, এবং পরিবেশটি ওই বাচ্চার জন্য একেবারে নতুন। যাদের এবেপারে অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন এই ধরণের নতুন একটি পরিবেশে এদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জের হতে পারে। অথবা সেই পরিবারের একজনের চাকরি ছেড়ে বাচ্চাকে নিয়ে বাসায় থাকতে হবে। তখন তাদের বিল পে করবে কে ??
ইতিমধ্যে আবার ইস্কুলগুলিকে শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।  তাহলে বুঝতে পারছেন কি অবস্থা। একেতো সাধারণ পাবলিক ইস্কুলের শিক্ষকরা বিশেষভাবে trained না তারপর আবার প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক। এদের এই ধরনণের কাজে আমার মনে হয় যে এই special needs যেহেতু vulnerable এবং অন্যদের মতো সোচ্চার হতে পারে না তাই তাদের উপর যত চাপ। এ কারণেই আমি “মরার উপর খড়ার ঘাঁ” বলেছি।  যাহোক এরা vulnerable হলেও আমি,আপনি চুপচাপ বসে থাকতে পারি না। কাজ কতটুকু হলো বা না হলো সেটি বড়ো কথা নয়, এই ধরণের একটি সেচ্ছাচারী সিদ্বান্তের তীব্র প্রতিবাদ করতে হবে। প্লিজ যে যেভাবে পারেন এ বিষয়ের প্রতিবাদ করুন। আর আমার থেকে আরো বিস্তারিত এবং বেশি অনেকে এ বিষয় জানতে পারেন এবং এই নতুন প্রোগ্রামে আরো কি কি সমস্যা হতে পারে সেটি সমন্ধে লিখুন এবং আপনার লোকাল এমপিকে জানান।
একটি উন্নত এবং সভ্য দেশে এই বিশেষ বাচ্চাদের উপর এই ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। হাঁ, এ বিষয়ে খরচ আছে সেটি মানছি কিন্তু কিছু কিছু ক্ষত্রে আপনাকে খরচ করতেই হবে, আর সে জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ট্যাক্স অনেকেই রাজি আছেন এবং থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের ট্যাক্সের টাকা এর থেকে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেবহার হস্ছে, খুঁজে দেখলে পাবেন।
আসুন আমরা সবাই সব মানুষকে একই রকম মনে করা শিখি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করি।
উল্লেখ এক্ষেত্রে আমি কোনো দল বা বেক্তির হয়ে কথা বলছি না। এই ধরনের কাজ যেই সর্রকারই করুক আমার এই একই প্রতিবাদ থাকবে।
সবাই ভালো থাকবেন, এবং সমাজ থেকে স্টিগমা এবং বৈষম্য দুর করতে এগিয়ে আসুন।
বিঃ দ্রঃ
আর একটি বিষয় আছে যেটিও উপেক্ষা করার মতো না। সেটি হলো সবাই না হলেও কিছু কিছু লোক আছে যারা যে কোনো ধরনের Social Assistanceকে অন্যভাবে খরচ করছেন, অর্থ্যাৎ সরকারকে ফাঁকি দিসছেন। এদের সংখ্যা কম হলেও এরা জেনুইন ভুক্তভোগী লোককে বেশি ক্ষতি করছেন। সে কারণে এখন আমাদের মতো অনেক দেশের লোককে ভিসা দেয়ার সময় আগের থেকে বেশি কড়াকড়ি করছে, ফলে অনেক জেনুইন লোক বঞ্চিত হসছেন। এই ক্ষত্রে সরকারকে এই নতুন programটির মত একটি Band Aid সল্যুশন না দিয়ে ওই ধরনের ফাঁকি যাতে কেউ না দিতে পারে সে বেপারে বেশি সজাগ হতে হবে।
যেমন কেউ ODSP অথবা OW তে থাকলে আগে CSUMB বেনিফিটের জন্য প্রতি ২৪ মাস পর একবার আবেদন করতে পারতেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পেয়ে যেতেন। সর্বোচ $৮০০ জন প্রতি। এতে আমি নিজে দেখেছি, যে কারণে এই টাকা দেওয়া হতো সেই কারণ না থাকলেও কিছু কিছু মানুষ ওই খাতে টাকা নিতো এবং সেটি দিয়ে অন্য কাজ করতো। যাহোক সেটি বন্ধ করে সিটি এখন HSF ফান্ড নাম আর একটি বেনিফিটের বেবস্থা করেছে। এতে আগের মত অত সহজে ঐভাবে টাকাটি পাওয়া জাস্ছে না, এবং যার সত্যিই দরকার সে মোটামুটি পাসছে। জাস্ট দুসপ্তাহে কোনো এক ক্লায়েন্টের এই বেনিফিট সমন্ধে সিটির একজন HSF ম্যানেজার এর সাথে আলাপে বেপারটি আরো ভালো করে জানলাম।
যাহোক, আবারো বলছি, তড়িঘড়ি করে কোনো Band Aid সল্যুশন যেমন করা ঠিক না তেমনি ওই জাতীয় কিছু লোকের ট্যাক্স পেয়ারদের টাকার অপচয়ও কমাতে হবে, তা না হলে আসল লোক ঠিক মতো উপকৃত হবেন না এবং কিছু কিছু সুযোগ সন্ধানী সুযোগ নিয়েই যাবেন।
মুকুল
(ছবি:-সৌজন্যে Medical Xpress)

1,598 total views, 2 views today

প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর। পোষ্ট লেখক অথবা মন্তব্যকারীর অনুমতি না নিয়ে পোস্টের অথবা মন্তব্যের আংশিক বা পুরোটা কোন মিডিয়ায় পুনঃপ্রকাশ করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *