গেলো সপ্তাহটা খুবই ব্যাস্ততায় কেটেছে। অফিসের কাজ বাসায় বসে করা হলেও কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল। মুখোমুখী ইন্টারভিউ, কাউন্সিলিং, কনসালটেশন বা ক্লায়েন্ট এসেসমেন্ট যেহেতু বন্ধ তাই সেগুলি ফোনে, ইমেইলে এবং টেক্সটের মাধ্যমে করতে হচ্ছে। আর এখানে বলতে গেলে প্রতিটি মানুষের যেহেতু ইন্টারনেট বা TV এক্সেস আছে তাই আমাদের অনেক ক্লায়েন্টই বর্তমান কোরোনা ক্রাইসিস এর বিভিন্ন ধরণের খবরে টইটুম্বুর। এর মধ্যে তারা সঠিক, বেঠিক বা ভুয়া সব খবরই পাচ্ছে, এবং তাদের শঙ্কা বা উৎকন্ঠার পরিমানটা বেড়ে যাচ্ছে। আর আমরা যেহেতু সমাজের বলতে গেলে একেবারে vulnerable বা disadvantage জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করি তাই এদের যোগাযোগের পরিসর আমরা ছাড়া খুব বেশি নেই, সেজন্য এই বিপদের সময় তারা আমাদের শরণাপন্ন হয় বেশি বেশি। আর এই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদেরকে উৎকণ্ঠা মুক্ত করা বা আসার বাণী দেওয়া ছাড়া তাদের অন্নান্য সমস্যা তো আছেই। এই সব মিলিয়ে আমাদের কাজের পরিমান এখন বেশি।

আজকে তাই ৫ দিন পর একটু স্বস্তি মিললো। আমি সাধারণত আমার নাস্তা নিজেই বানাই কারণ অনেক সকালে উঠা হয়, যখন বাসার সবাই ঘুমে থাকে তাই আর তাদের ডাকা-ডাকি করি না। উইকেন্ডে একটু ভিন্ন ধরণের নাস্তা হলেও আজকে এই সাধারণ বা রেগুলার নাস্তায় হলো। ফ্রিজের উচ্ছিষ্ট কিছু ফলের সাথে কিছু টক দই (plain yogurt)এবং Hem Heart অর্থ্যাৎ ভুসি টাইপ একটা জিনিস যেটা কানাডিয়ান প্রোডাক্ট যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে ইত্যাদি মিশিয়ে আজকের নাস্তা সেরে ফেললাম। চারিদিকে উৎকণ্ঠা আর শঙ্কার মধ্যে ক্রিয়েটিভ কিছু কাজের মাধ্যমে মনকে ডাইভার্ট করা ভালো। সব কিছুর পরেও আল্লাহর কাছে অনেক শোকর, কারণ পৃথিবীর অনেকের ভাগ্যে এই নাস্তাটুকুও হয়তো জুটছে না। তারপর এই মহাবিপদে অনেককেই বাইরে কাজে যেতে হচ্ছে, এবং আমাদের থেকে বেশি বেশি এক্সপোজ হচ্ছেন, আমাদের অন্তত সেটি করা লাগছে না এবং চাকরিটা এখনো আছে।

আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন এই নাস্তার রেসিপি, যদিও এটাকে রেসিপি বলা ঠিক হবে না কারণ জাস্ট কিছু ফলের মিশ্রণ মাত্র।
সবাই ভালো থাকেন। এই সময়ে কি করতে হবে তা সবার জানা, সেটিই করুন।
আল্লাহ আমাদের সবার মঙ্গোল করুন।
Happy Weekend .
মুকুল
টরন্টো

আপনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন