গত ২৩শে নভেম্বর টরন্টোয় ডানফোর্থের মিজান কমপ্লেক্সে অনুষ্টিত হয়ে গেল একটা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ আর সময় উপযোগী সেমিনার। বিষয় ছিল “প্রবাসে বাংলা শেখার প্রয়োজনীয়তা ও করণীয়” যার আয়োজক ছিলেন আয়োজনে বাংলা স্কুল টরন্টো।

সমাজের বিভিন্ন পেশার গুণী জনের উপস্থিতিতে এটা ছিল খুবই একটা সফল আয়োজন। বিশেষ করে জনাব আব্দুল হালিম মিয়ার নির্দেশনায় আলোচনা স্হানটি সাজানো হয়েছিল একটা বিশেষ আদলে । সাধারণত এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনে আমরা বসার স্হানটি দুটি ভাগে ভাগ করে নেই। যার একটা আয়োজক-কর্মকর্তাবৃন্দের জন্যে আর অন্যটা দর্শক-শ্রোতাদের জন্য নির্ধারিত। একটা সভা মঞ্চে অন্যটা মঞ্চের সামনের উন্মুক্ত জায়গাটায়। “আয়োজক কর্মকর্তা “বৃন্দ বক্তব্য রাখেন আর শ্রোতার আসনে বসে বাকিরা শুনে বাড়ী চলে যান – এখানই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি। এটাই আমাদের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলির চিরাচিরত দৃশ্য। তবে এবারের সভাস্থলের চিত্রটা ছিল অন্য রকম আর একটু ব্যাতিক্রমধর্মী। বসার স্হান ছিল একটা , সবাই floor এ একটা বড় টেবিলের চারিপাশে গোল হয়ে বসেছিলেন । এখানে সবাই বক্তা আর সবাই শ্রোতা। এই ধরনের একটা পরিকল্পনার জন্য সাধুবাদ জানাই জনাব আব্দুল হালিম মিয়াকে।

সভাটি সময় মতো শুরু করা ,একটা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে এতগুলো মানুষকে একত্রিত করাটাই ছিল আয়োজকদের সবচাইতে বড়ো সার্থকতা বলে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি। আমার ব্লগের কাজের স্বার্থে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্টানে যাই, কিন্তু এই দিনের দর্শক উপস্থিতি আর সবার সতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের আয়োজন খুব কমই দেখেছি বলে মনে হয়। এজন্য সাধুবাদ জানাই হাতে গোনা মুষ্টিমেয় কয়েকজন নিবেদিত প্রান মানুষকে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় আজও টিকে আছে বাংলা স্কুল টরন্টো। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই অনুষ্টানের সন্মানিত আয়োজক বৃন্দদের ,এইরকম একটা সময় উপযোগী বিষয়ের উপর আলোকপাত করার জন্য।

এই আলোচনা অনুষ্ঠানের সুদূর প্রসারী সার্থকতা কতটুকু ? তার উত্তর শুধু সময়ই দিতে পারবে। তবে এটা পরীক্ষিত ভাবে সত্য প্রমাণিত হলে যে “আমরা চাইলেই করতে পারি ” আমাদের সেই শক্তি আছে। শুধু প্রয়োজেন সাহসের – আমরা যেন নেতিবাচক সমালোচকদের প্রতিহত করতে পারি।

অনুষ্টানের সকল বক্তাই অত্যান্ত মূল্যবান বক্তব্য রেখেছেন এই সুদূর প্রবাসে আমাদের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনের উপর । অনেকেই শেয়ার করেছেন নিজস্ব বাস্তব অভিজ্ঞতা গুলি, সেই সাথে নিজেস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে দিয়েছেন পথ নির্দেশনা। তবে এই প্রচেষ্টা যেন শুধু মাত্র আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ না থেকে যায় – সবাই মিলে একে বাস্তবে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া একান্ত প্রয়োজন।

আজকের লেখাটা শেষ করার আগে আপনাদের কাছে একটা ছোট্ট অনুরোধ রেখে যেতে চাই । যে উদেশ্যে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়ে ছিল তার অনেক গুলো কারণের মাঝে একটা অন্যতম কারণ টরন্টোর বাংলা স্কুলের প্রতি সচেতনতা আর আগ্রহ সৃষ্টি করা। কাগজে কলমে ছাত্র -ছাত্রীর সংখ্যা ৩০ এর অধীক হলেও উপস্থিতির সংখ্যা মাত্র কয়েক জন। আমরা সবাই ব্যাক্তিগত ভাবে একটু চেষ্টা করলে হয়তো স্কুল কতৃপক্ষকে এই ব্যাপারে সাহায্য করতে পারি। আপনার আমার পরিচিত বাঙ্গালী পরিবার গুলি যাদের বাচ্চারা গ্রেড ৮ লেভেল পর্যন্ত পড়াশুনা করে, তাদের কাছে বাংলা স্কুলের খবরটা পৌঁছে দিতে পারি । আর যদি আপনাদের ওই বয়েসি বাচ্চা থাকে তাদেরকেও উৎসাহিত করতে পারি। আমার মনে হয় এই কাজটুকু করার জন্য কোনো সেমিনার বা অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নাই। শুধু প্রয়োজন আমাদের একটু প্রচেস্টার।
যে যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন – এই শুভ কামনা রইলো।


আপনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন